

কক্সবাজারের রামুতে সীমান্ত চোরাচালান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত যুবক মো. শাহাব উদ্দিন (২৪) রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া গ্রামের এমদাদ মিয়া প্রকাশ টুক্কুর ছেলে। গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় বালুবাসা গ্রামের শুকমনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাইল নোমান জানিয়েছেন- শনিবার রাতে চোরাচালানে জড়িত দুটি পক্ষে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। স্থানীয়রা গুলির শব্দও শুনেছে। তবে কি কারণে বা কারা সাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেছেন তা তিনি জানেন না। তিনি আরও জানান- বর্তমান সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরাচালানকে ঘিরে স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে তাঁর ইউনিয়ন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন- বালুবাসা গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে আনছার উল্লাহসহ একদল গর্জনিয়া বাজার থেকে ফিরছিলেন। ফেরার পথে শুকমনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পৌঁছলে নিহত সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী ডাকাতদল তাদের গতিরোধ করে তাদের কাছে থাকা ৫ লাখ টাকাসহ সর্বস্ব লুট করে নেয়। পরে স্থানীয়রা সাহাব উদ্দিনকে ধরে গণধোলাই দেয়। পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানতে পারেন। তিনি আরও জানান- এ ঘটনায় আনছার উল্লাহ নামের একজনকে পুলিশ জিজ্ঞাষাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।
এদিকে নিহত সাহাব উদ্দিনের স্বজন ও গ্রামবাসীর দাবি ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। ইয়াবা আসল কিনা তা নিয়ে ইয়াবা বিক্রেতা ওবাইদুল আকবর রিমন ও ক্রেতা মো. শাহাব উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ঘটে। এসময় একদল ইয়াবা কারবারি সাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমন কান্তি চৌধুরী জানিয়েছেন- আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত আটকের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হয়েছে
পাঠকের মতামত